
মা, বোন, বান্ধবী, কারো সাথেই ব্রা নিয়ে খোলাখুলি কথা হয় না। প্রথম ব্রাটা সাধারণত কেউ একজন আন্দাজে কিনে দেন, তারপর বছরের পর বছর সেই একই সাইজ বলে কেনা চলতে থাকে। ফলে অনেকেই ভাবেন ব্রা মানেই অস্বস্তি, দিনশেষে খুলে হাঁফ ছাড়াটাই স্বাভাবিক। আসলে তা নয়। ঠিক সাইজের ব্রা পরলে সারা দিনে সেটির কথা মনেই পড়ার কথা না।
এই লেখায় পাঁচটি বিষয় নিয়ে কথা হবে। প্রথম তিনটি ভুল সাইজের লক্ষণ, যা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এখনই মিলিয়ে দেখা যায়। শেষ দুটি অভ্যাসের ভুল, যার কারণে ভালো ব্রা-ও অল্প দিনে নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিটির সাথে আছে কেন হয়, কীভাবে পরীক্ষা করবেন এবং সমাধান কী।
- পিঠের ব্যান্ড ওপরে উঠে গেলে ব্যান্ড বড়।
- কাঁধে লাল দাগ পড়লে ফিতা বাড়তি ভার টানছে, কারণ ব্যান্ড নিজের কাজ করছে না।
- কাপ থেকে বেরিয়ে এলে কাপ ছোট, কাপে ফাঁকা থাকলে কাপ বড়।
- একই ব্রা টানা দুই দিন পরা এবং ওয়াশিং মেশিন ও কড়া রোদ ইলাস্টিক নষ্ট করে।
- প্রথম তিনটির যেকোনো একটি মিললে নিজের সাইজ আবার মেপে নিন।
১. পেছনের ব্যান্ড ওপরে উঠে যায়
কেন হয়: ব্রা-র সাপোর্টের বেশির ভাগ আসার কথা ব্যান্ড থেকে। ব্যান্ড ঢিলে হলে সামনের ওজনে সেটি সামনে নেমে যায় আর পেছনে ওপরে উঠে যায়। অনেকে আরামের আশায় এক সাইজ বড় ব্যান্ড কেনেন, তাই এটিই সবচেয়ে বেশি দেখা ভুল।
কীভাবে পরীক্ষা করবেন: আয়নায় পাশ ফিরে দাঁড়ান। ব্যান্ড সামনে ও পেছনে একই উচ্চতায় থাকার কথা। এরপর পেছনে ব্যান্ডের নিচে আঙুল ঢোকান। দুই আঙুলের বেশি সহজে ঢুকে গেলে বা ব্যান্ড টেনে অনেকটা দূরে আনা গেলে সেটি ঢিলে।
২. কাঁধে লাল দাগ পড়ে
কেন হয়: ফিতার কাজ শুধু কাপকে জায়গায় ধরে রাখা, ওজন বাওয়া নয়। ব্যান্ড ঢিলে হলে পুরো ভারটা গিয়ে পড়ে ফিতার ওপর, আর ফিতা কাঁধে দেবে যায়। কাপ ছোট হলেও ফিতায় টান পড়ে।
কীভাবে পরীক্ষা করবেন: দুই কাঁধ থেকে ফিতা নামিয়ে দিন। ব্যান্ড ঠিক থাকলে ব্রা প্রায় আগের জায়গাতেই থাকবে। সাথে সাথে নেমে গেলে বুঝবেন এতক্ষণ ফিতাই সব ধরে রেখেছিল।
উল্টো সমস্যাও হয়: ফিতা বারবার কাঁধ থেকে পড়ে যায়। ফিতা ছোট করেও না থামলে সাধারণত কাপ বড় অথবা ব্যান্ড বড়, নয়তো ইলাস্টিক নষ্ট হয়ে গেছে।
৩. কাপ থেকে বেরিয়ে আসে, অথবা কাপে ফাঁকা থাকে
কাপ ছোট হলে: বুক কাপের ওপর দিয়ে বা বগলের পাশ দিয়ে বেরিয়ে আসে, জামার ওপর দিয়ে একটি বাড়তি দাগ দেখা যায়, আর দুই কাপের মাঝের অংশ বুকের হাড় থেকে উঁচু হয়ে থাকে।
কাপ বড় হলে: কাপের ওপরের দিকে ফাঁকা জায়গা থাকে, কাপড়ে ভাঁজ পড়ে, সামনে ঝুঁকলে কাপ গা থেকে আলাদা হয়ে যায়।
কীভাবে পরীক্ষা করবেন: ব্রা-র ওপর একটি পাতলা গায়ে লাগা জামা পরে আয়নায় দেখুন। বুকের আকার মসৃণ দেখালে কাপ ঠিক আছে। উঁচু নিচু দাগ বা ভাঁজ দেখা গেলে কাপ ঠিক নেই।
৪. একই ব্রা টানা দুই দিন পরেন
কেন ক্ষতি হয়: সারা দিন শরীরের তাপ আর টানে ইলাস্টিক লম্বা হয়ে থাকে। আগের অবস্থায় ফিরতে তার অন্তত এক দিন বিশ্রাম দরকার। টানা পরলে সেই সুযোগ পায় না, ফলে ব্যান্ড খুব তাড়াতাড়ি ঢিলে হয়ে যায় এবং এক নম্বর সমস্যাটি ফিরে আসে। আমাদের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামও বেশি হয়, তাই পরিচ্ছন্নতার দিক থেকেও টানা পরা ভালো নয়।
৫. ওয়াশিং মেশিনে ধোন, কড়া রোদে শুকান
কেন ক্ষতি হয়: মেশিনের ঘূর্ণিতে হুক অন্য কাপড়ে আটকে যায়, কাপ দুমড়ে যায় এবং ইলাস্টিকে টান পড়ে। গরম পানি, কড়া ডিটারজেন্ট ও সরাসরি কড়া রোদ ইলাস্টিকের টান কমিয়ে দেয় ও রং মলিন করে।
সঠিক নিয়মে ধোয়া:
- বালতিতে ঠান্ডা বা স্বাভাবিক পানিতে অল্প হালকা সাবান বা তরল ডিটারজেন্ট মিশিয়ে নিন।
- ব্রা দশ থেকে পনেরো মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, তারপর হাত দিয়ে আলতো করে কচলে নিন। ব্রাশ দিয়ে ঘষবেন না।
- পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে সাবান বের করে নিন।
- মুচড়ে নিংড়াবেন না। দুই হাতের মাঝে চেপে বা তোয়ালেতে চেপে পানি ঝরিয়ে নিন।
- ছায়ায়, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় শুকান। ফিতা ধরে না ঝুলিয়ে মাঝের অংশ দড়িতে রেখে ঝুলিয়ে দিন।
মেশিনে ধুতেই হলে হুক লাগিয়ে একটি জালের লন্ড্রি ব্যাগে ভরে, ঠান্ডা পানিতে হালকা মোডে ধুয়ে নিন।
সমস্যা ও সমাধান এক নজরে
| যা দেখছেন | সম্ভাব্য কারণ | যা করবেন |
|---|---|---|
| ব্যান্ড পিঠে উঠে যায় | ব্যান্ড বড় | ব্যান্ড এক ধাপ ছোট, কাপ এক ধাপ বড় |
| ব্যান্ড গায়ে দেবে যায়, শ্বাস নিতে অস্বস্তি | ব্যান্ড ছোট | ব্যান্ড এক ধাপ বড়, কাপ এক ধাপ ছোট |
| কাঁধে লাল দাগ | ব্যান্ড ঢিলে বা কাপ ছোট | আগে ব্যান্ড ঠিক করুন, তারপর ফিতা মেলান |
| ফিতা বারবার পড়ে যায় | কাপ বা ব্যান্ড বড়, অথবা ইলাস্টিক নষ্ট | ফিতা ছোট করুন; না হলে সাইজ দেখুন |
| কাপ থেকে বেরিয়ে আসে | কাপ ছোট | কাপ এক ধাপ বড় |
| কাপে ফাঁকা বা ভাঁজ | কাপ বড় | কাপ এক ধাপ ছোট |
| হাত তুললে ব্রা ওপরে উঠে যায় | ব্যান্ড বড় বা কাপ ছোট | নতুন করে মাপ নিন |
ঠিক সাইজের ব্রা কেমন লাগার কথা
- ব্যান্ড পিঠে সোজা থাকে এবং গায়ে লেগে থাকে, কিন্তু দাগ ফেলে না।
- বুক পুরোটা কাপের ভেতরে থাকে, কোথাও উপচে পড়ে না, কোথাও ফাঁকা থাকে না।
- ফিতা কাঁধে বসে থাকে, পড়েও না, দেবেও না।
- হাত তুললে, ঝুঁকলে বা হাঁটলে ব্রা জায়গা থেকে সরে না।
- সারা দিনে বারবার টেনে ঠিক করতে হয় না।
চামড়ায় দীর্ঘদিন ধরে দাগ, ফুসকুড়ি বা ব্যথা থাকলে, অথবা সাইজ ঠিক করার পরেও অস্বস্তি না কমলে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
এখন কী করবেন
- এখন যে ব্রাটি পরে আছেন সেটি দিয়ে ওপরের প্রথম তিনটি পরীক্ষা করুন।
- যেকোনো একটি মিললে ফিতা দিয়ে দুটি মাপ নিন: বুকের ঠিক নিচে এবং বুকের সবচেয়ে উঁচু অংশে।
- মাপ দুটি সাইজ ফাইন্ডারে লিখুন, অথবা সাইজ চার্ট দেখে নিজে হিসাব করুন।
- নতুন ব্রা পেয়ে আবার একই পরীক্ষাগুলো করুন। না মিললে ৭ দিনের মধ্যে এক্সচেঞ্জ করে নিন।
আরামের জন্য বাছাই করা কয়েকটি ব্রা
Seamless Comfort Bra৳ 599
Ice Silk Jelly Support Seamless Bra৳ 1,090
Breathable Vest Push-Up Bra৳ 840
Wire-Free Push-Up Seamless Bra৳ 999দাম ও ধরন সম্পর্কে জানতে পড়ুন: বাংলাদেশে ব্রা-র দাম।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
ভুল সাইজের ব্রা পরছি কি না কীভাবে বুঝব?
তিনটি বিষয় দেখুন: পিঠের ব্যান্ড ওপরে উঠে যায় কি না, কাঁধে ফিতার লাল দাগ পড়ে কি না, এবং কাপ থেকে বেরিয়ে আসে বা কাপে ফাঁকা থাকে কি না। যেকোনো একটি মিললে সাইজ আবার মেপে নেওয়া দরকার।
ব্রা-র ব্যান্ড পিঠে ওপরে উঠে যায় কেন?
কারণ ব্যান্ড বড় বা ঢিলে হয়ে গেছে। আরও আঁটো হুকে লাগিয়ে দেখুন; তাতেও না হলে এক ধাপ ছোট ব্যান্ড এবং এক ধাপ বড় কাপ নিন, যেমন 36B থেকে 34C।
ব্রা-র ফিতায় কাঁধে দাগ পড়লে কী করব?
ফিতা আরও টাইট করবেন না। দাগ পড়ার মানে ফিতা বাড়তি ভার টানছে, যা সাধারণত ব্যান্ড ঢিলে হলে হয়। আগে ব্যান্ড সাইজ ঠিক করুন, তারপর ফিতা এমনভাবে মেলান যেন নিচে এক আঙুল ঢোকে।
কাপ ছোট না বড় কীভাবে বুঝব?
বুক কাপের ওপর বা পাশ দিয়ে বেরিয়ে এলে কাপ ছোট। কাপে ফাঁকা জায়গা বা ভাঁজ থাকলে কাপ বড়।
একই ব্রা কি প্রতিদিন পরা যায়?
টানা না পরাই ভালো। এক দিন বিশ্রাম পেলে ইলাস্টিক আগের অবস্থায় ফেরে এবং ব্রা বেশি দিন টেকে। অন্তত তিনটি ব্রা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরুন।
ব্রা কি ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া যায়?
হাতে ধোয়া সবচেয়ে ভালো। মেশিনে ধুতে হলে হুক লাগিয়ে জালের লন্ড্রি ব্যাগে ভরে ঠান্ডা পানিতে হালকা মোডে ধুন, এবং কড়া রোদে না দিয়ে ছায়ায় শুকান।
কতদিন পরপর ব্রা সাইজ মাপা উচিত?
বছরে অন্তত একবার, এবং ওজন বাড়লে বা কমলে, গর্ভাবস্থায় ও সন্তান জন্মের পরে, অথবা যখনই ব্রা অস্বস্তি দিতে শুরু করে।